July 24, 2021, 3:12 pm

নোটিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ২৪ ডটকম এ আপনাদেরকে স্বাগতম:: ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ২৪ ডটকম এ প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন, যোগাযোগ- মোঃ নাজিম উল্লাহ নাজু, সম্পাদক ও প্রকাশক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ২৪ ডটকম, কাজীপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মোবাইলঃ 01732877149, নির্বাহী সম্পাদক, আরাফাত আহমেদ, মোবাইলঃ 01916608000
ঘুরে এলাম বাংলার কাস্মীর, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর

ঘুরে এলাম বাংলার কাস্মীর, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর

আরাফাত আহমেদঃ দীর্ঘদিন অসুস্থতা ও লকডাউনের কারনে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। হঠাৎ করেই  বন্ধু মনি ও কমরেড পিকনিকের উদ্যোগ নিলেন। প্রতিদিন বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেডিয়ামে আমরা কয়েকজন বন্ধু ক্রিকেট খেলি। সিদ্ধান্ত নেয়া হল তাদেরকে নিয়েই সিলেট সাদা পাথর ঘুরতে যাবো।


যাত্রা হলো শুরু 

সিলেটের অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম নয়নাভিরাম ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের উৎসমুখে এর অবস্থান।

সিলেটের সীমান্তবর্তী একটি নদের নাম ধলাই। ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে এসেছে এটি। ধলাই নদের উৎসমুখে পাঁচ একর জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সাদা সাদা পাথর।

ওপারে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজের মায়াজাল। সেখান থেকে নেমে আসা ঝরনার অশান্ত শীতল পানির অস্থির বেগে বয়ে চলা। গন্তব্য তৃষ্ণার্ত ধলাইয়ের বুক। স্বচ্ছ নীল জল, সাদা পাথর আর পাহাড়ের সবুজ মিলেমিশে যেন একাকার। ধলাইয়ের বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের বিছানা শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে হাজার গুণ।

সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ঝরনার পানির তীব্র স্রোত নয়ন জুড়ায়। শীতল জলের স্পর্শে প্রাণ জুড়িয়ে যায় নিমিষে। পাথরের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলা পানির কলকল শব্দে যেন পাগল করা ছন্দ। বরফ গলার মতো ঠাণ্ডা সেই পানি। বেশিক্ষণ গা ভেজালে শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।

২৬ জুন শনিবার ভোর ৫:৩০ টায় দুইটি হাইএস গাড়িতে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হতে যাত্রা শুরু। গন্তব্য ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর। সঙ্গী ১৮ জন ভাই – বন্ধু। সকাল ৯ টার ভিতরে সিলেট পৌছে নাস্তার বিরতি নিলাম।
সিলেট নগরের আম্বরখানা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কটির চারপাশে শুধু সবুজ চা বাগান। দেখলে মনে হয় নীল আকাশ যেন সবুজ গালিচার ওপর তাঁবু টানিয়েছে। সড়কটি ধরে চলতে চলতে সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় মন। দু’হাতে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করতে পারলে মন্দ হতো না!
সিলেট থেকে ঘন্টাখানেক সময় লাগলো ভোলাগঞ্জ পৌছতে।

ফেরিঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে মূল গন্তব্য সাদাপাথরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। নৌকা যত সামনে এগোয়, মুগ্ধতা ততই বাড়তে থাকে।

ধলাই নদের স্বচ্ছ নীল জলে নৌকা চলতে চলতে চোখে পড়ে মেঘালয়ের আকাশছোঁয়া পাহাড়। মনে হচ্ছিল আকাশে হেলানো উঁচু উঁচু পাহাড়ের সারি।

চারপাশের চোখধাঁধানো সব দৃশ্য দেখতে দেখতে ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাই নদের উৎসমুখে। তীরে ভেড়ে নৌকা। তীরে নামতেই চোখে আটকে যায় পাথরের স্তূপে। পাথরগুলো সব সাদা। ছোট, মাঝারি, বোল্ডার আকৃতির পাথর। সাদার মধ্যে নিকষ কালো পাথরও আছে। কোনোটি খয়েরি। যেন এলাকাজুড়ে পাথরের বিছানা।

পাথর মাড়িয়ে ঝরনার আবাহন। কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোমর পানি। কোথাও তারও অনেক বেশি। পাথরের ওপর দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে তৃষ্ণার্ত ধলাইয়ের মুখে।

ধলাইয়ের বুকে সেই জলে নেমে নিজেকে শীতল করি। অনেকক্ষণ গা ভেজানোর পর প্রচণ্ড গরমেও শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল।  বিকালবেলা অসম্ভব সুন্দরকে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথ ধরি। মন বলছিল, আহ! কত অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমার এই দেশ!

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Copyright @ brahmanbarianews24.com