October 31, 2020, 1:31 am

নোটিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ২৪ ডটকম এ আপনাদেরকে স্বাগতম:: ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ২৪ ডটকম এ প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন, যোগাযোগ- মোঃ নাজিম উল্লাহ নাজু, সম্পাদক ও প্রকাশক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ২৪ ডটকম, কাজীপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মোবাইলঃ 01732877149, নির্বাহী সম্পাদক, আরাফাত আহমেদ, মোবাইলঃ 01916608000
সংবাদ শিরোনাম
আশুগঞ্জে একটি রিসোর্ট হতে বিপুল পরিমান বিদেশী মদ ও বিয়ার’সহ ২২ জন আটক বিজয়নগরে গাঁজা’সহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ আখাউড়ায় সম্ভাব্য ২ মেয়র প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ আশুগঞ্জে ফেন্সিডিল’সহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব আশুগঞ্জে প্রাইভেটকারযোগে গরু চুরি ! ২ টি গরু’সহ গরু চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার আশুগঞ্জে গাঁজা ও ট্রাক’সহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব সরাইল চুন্টায় চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর জয় আশুগঞ্জে গাঁজা ও প্রাইভেটকার’সহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
আমার দেখা শাহনেওয়াজ হত্যাকাণ্ড -এডঃ আব্দুল জব্বার মামুন

আমার দেখা শাহনেওয়াজ হত্যাকাণ্ড -এডঃ আব্দুল জব্বার মামুন

১৯৯৫ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন বি এন পি সরকারের অত্যাচার,  নির্যাতন এবং বেপরোয়া দুর্নীতি ও একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার নীল নকশার বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামীলীগ সমমনা সকল দলকে নিয়ে তিনদিন ব্যাপি লাগাতার হরতাল ডেকেছিল। আমাদের কাছে খবর ছিল তখনকার ছাত্রদল নেতাদের হাতে এই হরতালকে প্রতিরোধ করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ করা হয়েছে।

তখনকার দিনগুলিতে সবচেয়ে কড়াকড়ি হরতাল হত শহরের কমার্শিয়াল মোড় থেকে রেলগেইট পর্যন্ত। শাহনেওয়াজ ভাই ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ব্যাপক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। হরতাল সফল করার পেছনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করতেন। ১৫ তারিখ রাতে তিনি কাজীপাড়া মৌলভী হাটির জাহানারা হাউজে (তৌফিক ভাইদের পাশের বাড়ি)  একটি গোপন মিটিং ডেকেছিলেন। সেই মিটিং এ আমিসহ হাজির ছিল তপন ভাই, নাজু ভাই, রিপন ভভাই, তৌফিক ভাই, বশির ভাই, নাদিম ভাই, রোকন ভাই, কলেজ পাড়ার খোকা (ভিপি খোকা) অপু (জি এস অপু) সহ সমমনা আরও অনেকে,  উদ্দেশ্য আগামীকালের হরতালে করনীয় সম্পর্কে।

এমনিতে তখন হরতালের আগের দিন মশাল মিছিল হত তবে সেদিন আমরা যাইনি কারন এদিন ( ১৫ তারিখ) সরকারি কলেজে তিনতলা থেকে ছাত্রলীগের জমায়েত  লক্ষ করে গুলি করেছিল ছাত্রদল নামধারী গুন্ডাবাহিনী  গুলিটি কৃঞ্চচুড়া গাছের ডালে লেগে তপন ভাইয়ের মুখে পড়েছিল এবং তপন ভাই আহত হয়েছিলেন।

সন্ধ্যায় শাহনেওয়াজ ভাই মিটিং ডেকে সবাইকে বলে দিলেন আগামীকাল হরতালে আমরা কেউ পিকেটিং এ না গিয়ে ছাত্রদলের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করব কারন ওরা থাকবে সশস্ত্র আর আমরা নিরস্ত্র পিকেটিং এ গেলেই আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে এবং আমাদের নেতারা বিশেষ করে মরহুম বিজ্ঞ এডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চু ভাই (সাবেক এম পি)বিজ্ঞ এডভোকেট আলী আজম সাহেব, বিজ্ঞ এডভোকেট সিরাজ সাহেব (মরহুম)বিজ্ঞ এডভোকেট এমদাদুল বারী চাচা, জনাব আল মামুন সরকার, আমানুল হক সেন্টু ভাই সবাই বলেছে আমাদের আন্দোলন হবে নিরস্ত্র এবং জনগনকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শাহনেওয়াজ ভাই তখনকার উদীয়মান এবং সাহসী ছাত্রনেতা খোকা এবং অপুকে (মরহুম) পরদিন  বের হতে শক্তভাবে  নিষেধ করেছিলেন কারন ওরা দুজন তখন ছাত্রদল নেতাদের চক্ষুশূল ছিল ওদেরকে পেলে মেরে ফেলতে পারে এরকম খবর ছিল। উপস্থিত সবাই তখন এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল।

পরদিন সকাল অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর আনুমানিক এগারটার দিকে আমাদের পাড়ার মঠের গুরির চশমা ব্যাবসায়ী কালাম হাপাতে হাপাতে মৌলভী হাটি মসজিদের সামনে  এসে বলল যে শাহনেওয়াজ ভাইকে ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে এবং শুধু গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য অমানুষিক  শারীরিক নির্যাতন করেছে।

তখন আমরা শুনেছি আমরা কেউ বের না হলেও তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম লুৎফুল হাই সাচ্চু সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে এবং দিক নির্দেশনা নিতে কাজীপাড়ার আসলাম ভাই (বর্তমানে আআওয়ামীলীগ নেতা) র্এবং মাহমুদ ভাইকে(ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে আওয়ামীলীগ নেতা)  সঙ্গে নিয়ে শাহনেওয়াজ ভাই উনার বাসভবনে যান এবং তিনজন রিকসা দিয়ে  ফেরার পথে মঠের গুড়িতে ছাত্রদলের হরতাল বিরোধী সমাবেশ থেকে প্রকাশ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা  শাহনেওয়াজ ভাইকে গুলি করে। মাহমুদ ভাই ও আসলাম ভাই দৌড়ে পালিয়ে প্রানে রক্ষা পান।

ভয়াবহ এই খবরটি শুনার পর উপস্থিত সবাই ক্ষোভে ফেটে পড়ে এরই মধ্যে মাওলা ভবনের আফজাল ভাই বা উনার ছোট ভাই(ঠিক মনে নেই)  রক্তাক্ত দেহ নিয়ে এসে হাজির হয়ে বলেন যে শাহনেওয়াজকে আমার দোকানের সামনে গুলি করেছে আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এসেছি অবস্থা খুব খারাপ।

মুহুর্তেই বিক্ষুব্ধ জনতার ঢলে পুরো শহর অচল হয়ে পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবস্থার  অবনতি  হওয়ায় শাহনেওয়াজ ভাইকে ঢাকা রেফার করে পথিমধ্যে নরসিংদীতে উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি  জননেত্রী শেখ হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। ঢাকায় আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের  সামনে শাহনেওয়াজ ভাইয়ের প্রথম জানাজা জননেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে জননেত্রী শেখ হাসিনা  সেদিন থেকে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

সেই আন্দোলন সফল করতে গিয়ে আরও অনেক আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর প্রান ঝরেছিল এবং অবশেষে স্বৈরাচারী খালেদা সরকারের পতন ঘটেছিল।

শাহনেওয়াজ হত্যার পর তার শোকে একবছর পর তার বড়ভাই বিজ্ঞ এডভোকেট শাহজাহান ভাই মারা যান, পুত্রশোক ভূলতে না পেরে উনার বাবা বিজ্ঞ এডভোকেট শেখ মোঃ আবদুল কাদের  সাহেব মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মারা যান, দুই ছেলে এবং স্বামীকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে উনার মা অন্ধ হয়ে কিছুদিন পর মারা যান।

দুঃখের বিষয় যারা সেদিন শান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অশান্ত করে প্রথম কলংকজনক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিল তাদের কিন্তু বিন্দু পরিমাণ সাজাও হয়নি তারা সবাই এখন বহাল তবিয়তে যুবদল এবং বি এনপির রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনা ৯৬ এ ক্ষমতায় এসে শাহনেওয়াজ ভাই এর বেচে থাকা একমাত্র ভাই শাহজালাল ভাইকে একটি ভাল চাকরি দিয়েছেন এবং তিনি এখন সেই চাকরিতেই আছেন।

আর একদিন পর ১৬ অক্টোবর শাহনেওয়াজ ভাই এর মৃত্যুবার্ষিকী।  ছাত্রলীগ  প্রতিবছর দোয়ার আয়োজন এবং নিহতের কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করে দিনটি পালন করে । প্রিয় মুজিব সেনাগন আসুন আমরা এই সাহসী  মুজিব সেনার জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে শহীদি মর্যাদা দান করেন,,,,, আমিন।

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Copyright @ brahmanbarianews24.com